গাইবান্ধায় মায়ের কাছ থেকে নিয়ে শিশুকে বিক্রির অভিযোগে বাবা ও তিন সহযোগীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ মাস বয়সী শিশুকে উদ্ধার এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুটির নাম মোছা: ফাতেমা আক্তার জান্নাত।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৭ জুলাই শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলাম মায়ের কাছ থেকে বিস্কুট খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। পরে আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের সহায়তায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পরে শিশুটির মা রোমানা খাতুন (২২) গাইবান্ধা আদালতে বাচ্চা উদ্ধারের আবেদন করলে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ইস্যু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুরের সাহার বাজার মোড় থেকে শিশুর বাবা হামিদুল ইসলামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জের ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে বিক্রির সহযোগী আব্দুল মজিদ সরকারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিক্রি হওয়ার ২ মাস পর ১৩ মাস বয়সী কন্যাশিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয় এবং মোর্শেদা খাতুনকে (৪৫) আটক করা হয়। এ ছাড়া ক্রেতা জেসমিন আক্তারকে (২৮) আটক করা হয়।
মাদকের টাকার জন্যই বাবা তার সন্তানকে বিক্রি করেছেন বলে প্রাথমিক ধারণা করছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
