লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলির (ট্রাক্টর) পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তহিদুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর এলাকার মুন্সিপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তহিদুল ইসলাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর আদর্শপাড়া এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে। আহতরা হলেন একই এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে হযরত আলী (২০) এবং লুৎফর রহমানের ছেলে আমির হোসেন (২০)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তহিদুলসহ তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে চাপারহাটের উদ্দেশে রওনা হন। মুন্সিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিন আরোহী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরসাইকেলটির গতি বেশি ছিল এবং এর হেডলাইট জ্বালানো ছিল না। একই সময়ে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলিটির পেছনেও কোনো বাতি বা সিগন্যাল লাইট জ্বলছিল না।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করেন। আমির হোসেনের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাঁকে চাপারহাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে তহিদুল ইসলাম ও হযরত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে তহিদুল ও হযরতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করা হয়। রংপুরে নেওয়ার পথে তহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। হযরত আলী বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মনজুরে মাওলা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।


