ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি কামনা ও নির্বান লাভের আশায় রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে নানিয়ারচর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রত্নাঙ্কুর বন বিহার সংলগ্ন মাঠে ২৮তম কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান ধর্মীয় গুরু হিসেবে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন, ফুরমোন আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবির, নানিয়ারচর রত্নাঙ্কুর বন বিহার অধ্যক্ষ বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির, বোধিপুর বন বিহার অধ্যক্ষ জিনবোধি মহাস্থবির, রাঙামাটি রাজবন বিহারের জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির ও লংগদুর প্রশান্তি অরণ্য কুঠিরের অধ্যক্ষ শুভপ্রিয় মহাস্থবির ভান্তে।
এসময় ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য প্রতিনিধি ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি শ্বাশত চাকমা রিংকু, নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর পেয়ারা বেগম, বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সাদাত হোসেন, রত্নাঙ্কুর বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি কমল কান্তি চাকমা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাত কুসুম চাকমা ও সাংগঠনিক সম্পাদক উষা কিরণ চাকমা সহ হাজারো দায়ক দায়িকা ও পুন্যার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রত্নাঙ্কুর বন বিহার পরিচালনা কমিটির আয়োজনে কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠানে চিবরদান, বৌদ্ধ মূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার বাতি দান ও কল্পতরু দান সহ নানবিধ দান সম্পন্ন করে পুন্যার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কঠিন চীবর দান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পুণ্যময় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতিবছর প্রবারণা পূর্ণিমার পর মাসব্যাপী বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে এ দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রত্নাকুর বৌদ্ধ বিহারেও আয়োজন করা হয়েছে এ ধর্মীয় উৎসবের। এই কঠিন চিবরদানের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্ব শান্তি কামনা, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর সুখ-শান্তি কামনা করছেন বলেও জানান তারা।


