ঢাকাFriday , 30 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে ওএমএসে স্বস্তি: সাশ্রয়ী দামে খাদ্যশস্য, বাজার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা

দেশ সময় ডেস্ক
October 30, 2026 9:59 am
Link Copied!

প্রতিদিন ৭০টি ট্রাক ও ১২১টি বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি হচ্ছে চাল-আটা; নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের আস্থার জায়গা সরকারি কর্মসূচি

Advertisement

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তখন রাজধানীতে খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ঢাকা রেশনিং, ঢাকা পরিচালিত ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহের মাধ্যমে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত হচ্ছে না, বরং বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই কর্মসূচি।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগগুলোর মধ্যে ওএমএস দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ করছেন, যা তাদের পারিবারিক ব্যয় কমাতে বাস্তব সহায়তা দিচ্ছে।

Advertisement

প্রতিদিন ৭০টি ট্রাক ও ১২১টি বিক্রয়কেন্দ্র

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা রেশনিং, ঢাকা পরিচালিত ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন ৭০টি ট্রাক এবং ১২১টি নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়।

Advertisement

বর্তমানে ওএমএসে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ২৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারমূল্যের তুলনায় এসব পণ্যের দাম প্রায় অর্ধেক হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সুবিধা গ্রহণ করছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমনভাবে বিক্রয়কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সহজে সেবা পাওয়া নিশ্চিত হয়।

সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি

রাজধানীর বিভিন্ন ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাঁদের ভাষ্য, বাজারে চাল ও আটার দাম বাড়লেও ওএমএস থেকে কম দামে এসব পণ্য কিনতে পারায় সংসারের ব্যয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের এক রিকশাচালক বলেন, “ওএমএস না থাকলে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যেত। এখানে কম দামে চাল-আটা পাই বলে কিছু টাকা বাঁচে।”

মিরপুরের এক গৃহিণী বলেন, “মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও এখন ওএমএস অনেক উপকার করছে। বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে চাল ও আটা পাওয়া যায়।”

(উল্লেখ্য: উপরের উদ্ধৃতিগুলো প্রতিবেদনের উপস্থাপনার স্বার্থে উদাহরণ হিসেবে সংযোজিত। প্রকাশের আগে প্রকৃত ক্রেতার বক্তব্য সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে)

বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সরকারি খাদ্যশস্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া মূল্য নির্ধারণের সুযোগ কমে যায়। ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মুনাফা আদায় এবং মূল্য কারসাজির প্রবণতাও সীমিত হয়।

তাঁদের মতে, ওএমএসে বিক্রির পরিমাণ যত বেশি হবে, বাজারে তত বেশি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এতে সাধারণ ভোক্তারাও পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন এবং খাদ্যপণ্যের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে।

নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্ন আয়ের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণিও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে রয়েছে। ওএমএসের সাশ্রয়ী মূল্যের চাল ও আটা এই দুই শ্রেণির মানুষের জন্য একটি কার্যকর সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নিম্ন আয়ের চাকরিজীবী এবং সীমিত আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে এই কর্মসূচি থেকে।

স্বচ্ছতা ও তদারকির ওপর গুরুত্ব

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ওএমএস কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া যায়।

তাঁরা আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মত

অর্থনীতি ও খাদ্যনীতি সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ওএমএস কেবল একটি খাদ্য বিক্রয় কর্মসূচি নয়; এটি বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের একটি কার্যকর নীতিগত হস্তক্ষেপ। মূল্যস্ফীতির সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাঁদের মতে, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে বিক্রয়কেন্দ্র ও সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন।

সামনের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর জনসংখ্যা ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে ওএমএস কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি জোরদার এবং সেবার মান উন্নয়ন করা গেলে কর্মসূচির কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

উপসংহার

দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যখন কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ঢাকা রেশনিং, ঢাকা পরিচালিত ওএমএস কার্যক্রম রাজধানীর নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সহায়তায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ৭০টি ট্রাক ও ১২১টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ২৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করে কর্মসূচিটি শুধু হাজারো পরিবারের খাদ্য ব্যয় কমাচ্ছে না, বরং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর তদারকি ও ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় থাকলে ওএমএস ভবিষ্যতেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
design and development by: Kishor Kumar