লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নারী শিক্ষার প্রসারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আস-সালাম মডেল গার্লস কলেজ। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচে ৮৮.২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
২০২৩ সালে রামগতির প্রত্যন্ত এলাকায় নারী শিক্ষার প্রসার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন ‘আস-সালাম মডেল গার্লস স্কুল ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে একটি মানসম্মত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি।
প্রতিষ্ঠাতা সালাউদ্দিন দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় জানান, নতুন কলেজ হিসেবে শুরুতে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ছাত্রী ভর্তি করানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করাও সহজ ছিল না। তবে শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় সেই বাধা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এমনকি শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রী ভর্তি করিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রথম ব্যাচে মোট ৬২ জন ছাত্রী ভর্তি হলেও বাল্যবিবাহ এবং নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে ৩০ জনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগী রাখা ছিল আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষার মান ও উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৭ জন ছাত্রীকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জন সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৮.২৪ শতাংশে।
এ সাফল্যে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠাতা সালাউদ্দিন দোলন কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সাপোর্ট স্টাফদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে উত্তীর্ণ ১৫ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন দোলন বলেন, উত্তীর্ণ ১৫ জন ছাত্রীকে দেশের স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির উপযোগী করে গড়ে তোলাই এখন প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী লক্ষ্য। তাদের উচ্চশিক্ষার পথচলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সাফল্যের পেছনে সহযোগিতার জন্য রামগতি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি মমতাজ বেগমের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি এবং তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সালাউদ্দিন দোলনের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আস-সালাম মডেল গার্লস কলেজ শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, জাতীয় পর্যায়েও একটি অন্যতম শীর্ষ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।


