ঢাকাFriday , 11 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাখিমারা খালে ৩০ বছরেও স্থায়ী সেতু হয়নি, দুর্ভোগে কৃষক

কিশোর কুমার
September 11, 2026 10:56 am
Link Copied!

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর দীর্ঘ ৩০ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত এই খাল পারাপারে কৃষকদের নিজেদের অর্থায়নে তৈরি জীর্ণ ভাসমান ড্রাম সেতুই এখন একমাত্র ভরসা। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কৃষক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। পাশাপাশি পরিবহন করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য।

Advertisement

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কুমিরমারা, এলেমপুর, মজিদপুর, বাইনতলা ও ফরিদপুর—এই পাঁচ গ্রামের কৃষকেরা প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব পণ্য পাখিমারা পাইকারি বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পাঠানো হয়। তবে স্থায়ী সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সবজি নষ্টও হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর চাকামইয়া এলাকায় ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের কিছু মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ওই সেতুর ধ্বংসাবশেষ খালের পাশে পড়ে রয়েছে।

Advertisement

এরপর কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে একটি ভাসমান সেতু তৈরি করেন। কয়েক দফায় নিজেদের অর্থায়ন ও বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় সেতুটি মেরামত করা হলেও বর্তমানে সেটিও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনুর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির জুয়েল শিকদার বলেন, “পাঁচটি গ্রাম থেকে বছরে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। ভাসমান সেতুর কারণে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এখানে একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হলে পরিবহন খরচ অনেক কমে যেত। এতে কৃষিপণ্যের দামও কমানো সম্ভব হতো।”

Advertisement

কৃষক আজিজ হাওলাদার ও আবু বকর মৃধা বলেন, “সেতু না থাকায় অনেক সময় নৌকায় করে কৃষিপণ্য পারাপার করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে।”

কৃষক সুলতান গাজী বলেন, “কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এই এলাকার উৎপাদিত সবজি দিয়ে পূরণ হয়। প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে করে এসব সবজি দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। আবার সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় কৃষকের কষ্টে উৎপাদিত সবজি নষ্ট হয়ে যায়।”

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও নবগঠিত হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, “কৃষকদের উদ্যোগে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে তৈরি করা ভাসমান সেতুটি কয়েক দফায় নিজেদের অর্থায়নে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, খরিফ-২ মৌসুমে কুমিরমারা গ্রাম থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ মণ এবং কোনো কোনো দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মণ পর্যন্ত করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। তবে এসব কৃষিপণ্য খাল পারাপারের সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই ডিজাইনের কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএর ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেছে। এখন এটি ডিপিপি আকারে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, একনেকে অনুমোদন পাওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, পটুয়াখালী-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ মো. মনিরুজ্জামান মনির সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাজ করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।