দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি। তিনি বলেছেন, একটি দেশের বড় সম্পদ হলো সেই দেশের জনসংখ্যা। জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Bangladesh Parliament–জাতীয় সংসদ)-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক তথ্যের মাধ্যমে এ বক্তব্যের কথা জানানো হয়।
জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর কারিগরি সহায়তায় এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত “Three Dividends, One Window: A Parliamentary Dialogue on Population and Development in Bangladesh” শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেন, উন্নয়ন শুধু অর্থের পরিবর্তন নয়; মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের মাধ্যমেই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
স্পিকার বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ, জেন্ডার লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ প্রত্যেকটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না; একই সঙ্গে আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পলিসি প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। তারুণ্যের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। তরুণদের দক্ষতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধিরা পলিসি লেভেলে কাজ করেন। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ জনসংখ্যা তৈরি এবং মানবসম্পদ বিদেশে প্রেরণে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সুযোগের তিনটি পৃথক জানালার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি “বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ: সম্ভাবনা, সময় ও ঝুঁকি” বিষয়ে মূল আলোচকরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
