কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘BNP Media Cell’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন। তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমরা বিব্রতবোধ করি। আইন অনুযায়ী তাদের কোনো সভা-সমাবেশ করা বা দলীয় কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই। তারা আইন অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে—যেকোনো মূল্যে এসব নির্বাচন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। এ জন্য বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার দলীয় মনোনয়ন বা জাতীয় প্রতীক, যেমন ধানের শীষ, ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং সাধারণ প্রতীকে।
তবে মাঠপর্যায়ে দলের চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখতে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বগুড়ার ইপিজেড, বিমানবন্দর ও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথসহ প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই বগুড়াবাসী এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শিবগঞ্জ মোকামতলা উপজেলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শিবগঞ্জ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুকূলে দুটি স্কুল বাস বিতরণ করবেন প্রতিমন্ত্রী।
