বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘BNP Media Cell’-এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের ফলে একদিকে ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হবে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কয়েক বছর আগে। ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৮ সালে প্রকল্পটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে শুধু ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝা যাবে না। একই সঙ্গে এটি ঢাকার বর্জ্য সংকট, ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি উৎপাদন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্বন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বছরে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা খরচ হয়। চীনের উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে সিটি কর্পোরেশনকে এই ব্যয় বহন করতে হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিট পেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বাসসকে বলেন, প্রকল্পটিতে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, এনডিবি এবং ব্যাংক অব চায়নাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, সবাই বিদ্যুতের দাম নিয়ে কথা বলছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এর দাম ১০ টাকার নিচে নেমে আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাবে।
কার্বন ক্রেডিট পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ও সনদ। এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো কিংবা অপসারণের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিকভাবে একটি কার্বন ক্রেডিটের অর্থ হলো এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নিঃসরণ থেকে বিরত রাখা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এই কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা পাবে।
