BNP Media Cell-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে, মানিকগঞ্জে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। একই সঙ্গে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার তিনটি সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর পৌরসভায় ওএমএস ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী। নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা পৌঁছে দিতে মানিকগঞ্জ শহরের পাঁচটি নির্ধারিত পয়েন্টে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে শহরের নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা কেনার সুযোগ পাবেন।
পরে খাদ্যমন্ত্রী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
উন্নয়নকাজের আওতায় রয়েছে বেতিলা-মিতরা ধলেশ্বরী ব্রিজ ভায়া মকিমপুর জিপিএস অ্যান্ড জে কে হাইস্কুল সড়কের ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ। এ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এ ছাড়া পুবাইল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সৈয়দপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নে ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা। বেংরই ইসমাইলের বাড়ি থেকে মাকাই ঘোষবাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
তিনটি সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সর্বমোট ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এসব সড়কের উন্নয়নের ফলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়কের উন্নয়নকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই প্রতিটি উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। কাজের মান নিয়ে কোনো অসংগতি বা অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। উন্নয়নকাজ শুধু সম্পন্ন করলেই হবে না, তা টেকসই ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির ওএমএস কার্যক্রম এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি উন্নয়নকাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এসব কার্যক্রমের সুফল পান।
এর আগে সকালে ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন এবং যুব উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের উদ্যোগ ও উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা সম্ভব। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অবহেলায় নষ্ট না করে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে। যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ঋণ ও অনুদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণদের নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। অসৎ উপায়ে সাময়িক সাফল্যের পরিবর্তে সততা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মানিকগঞ্জের তরুণদের মেধা, প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ও সিভিল সার্জন ডা. আইভি। স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম।
এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, যুব উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষণার্থী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


