সরকারের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্ভাব্য রদবদলে কয়েকজন সংসদ সদস্য ও দলের অভিজ্ঞ নেতার নাম আলোচনায় আসছে। এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের নাম।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন এবিএম মোশাররফ হোসেন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৩৬ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৫৩ হাজার ৭৩১।
নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয় এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মসূচি ও প্রচারণায়ও সক্রিয় ছিলেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবিএম মোশাররফ হোসেন। নির্বাচনী ফলাফল ও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসছে বলে দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন এবং এবিএম মোশাররফ হোসেনকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর নাম নিয়ে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে যায়, তা নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রিসভায় নতুনদের অন্তর্ভুক্তি হলে নির্বাচনে শক্তিশালী জনসমর্থন পাওয়া এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে এবিএম মোশাররফ হোসেনের মতো নেতাদের সম্ভাব্য দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে।
