মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কম থাকবে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ সময় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গত বছরের ডিসেম্বরেও পরিচালনা করা হয়েছিল। এবারও নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করছে পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।
গত ২৭ অক্টোবর উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ফুট গভীর নলকূপ খননের পর ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন ধরে যায়। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাপেক্সের দুইজন ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক ১৫ দিনের মধ্যে আগুনের প্রবাহ কমে আসতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কম না হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অগ্নিনির্বাপণ ও গ্যাসের প্রবাহ বন্ধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ ছাড়া ওই এলাকায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।


