ঢাকাThursday , 13 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলা
  6. চট্টগ্রাম বিভাগ
  7. চাকরি
  8. ঢাকা বিভাগ
  9. ধর্ম
  10. প্রযুক্তি সময়
  11. বরিশাল বিভাগ
  12. বানিজ্য
  13. বাংলাদেশ
  14. বিনোদন
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশে লোডশেডিং বাড়ার পেছনে যে ৩ কারণ

Link Copied!

তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের কিছু এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Advertisement

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, মাগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় নয়—সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ কারখানা বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন।

Advertisement

দীর্ঘ সময় লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি

লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ অফিসগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

Advertisement

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। চাহিদা যেখানে গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ মিলছে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনঅসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

এরই মধ্যে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের এরিয়া অফিস এবং পার্বতীপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন ভবের বাজার ইনডোর উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

গোপালগঞ্জেও নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে জনরোষ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী, অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সব বিতরণ সংস্থাকে সমন্বিতভাবে লোড ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংকটের পেছনে যেসব কারণ

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর। সম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

একই সময়ে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও জ্বালানি সরবরাহ ও কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন বেসরকারি কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ আমদানিকারকদের বড় অঙ্কের বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম

দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি হলেও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৩৩ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও বিভিন্ন কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো না যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও ১১ আগস্ট সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জ্বালানি সংকটে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট ঢাকা জোনে ৬ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলমের মতে, এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং ১২ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা উন্নত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির কারণে এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় গ্যাস উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট-দোকান বন্ধের নির্দেশ

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বিদ্যুৎ বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়েছে।

এর আগে ১১ জুন জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল। নতুন নির্দেশনায় সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বা অনুষ্ঠেয় মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।