লালমনিরহাটে শান্তিনিবাস ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় চারতলা ভবন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মিলছে না প্রকল্পের সুফল
লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোড এলাকায় ‘শান্তিনিবাস’। উদ্দেশ্য ছিল সমাজে অবহেলিত ও গৃহহীন প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া। কিন্তু ভবন নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে ওঠেননি কোনো প্রবীণ। বরং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। মেয়াদ শেষ হয়েছে লিফট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিরও।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের কলেজ রোড এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) প্রাঙ্গণে ৩০ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এই প্রবীণ আবাসনকেন্দ্র। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় ও মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রকল্পটি গ্রহণ করে। ভবনটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিল জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর। মোট ৮ কোটি ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে গণপূর্ত বিভাগ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক থেকে শুরু করে শান্তিনিবাসের প্রতিটি কক্ষই বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনের চারপাশ ও জানালা-কপাটে জমেছে ধুলাবালুর স্তর। ভবনের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো ভবন অন্ধকারে নিমজ্জিত। বহুতল
ভবনটির লিফট সার্ভিসও দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়েছে। শহরের মিশনমোড় এলাকায় আজিজুল ইসলাম নামের এক বয়োবৃদ্ধ বলেছেন, নিয়মিত ব্যবহার ও তদারকি না থাকায় বৈদ্যুতিক লাইন, ওয়াটার পাম্প, স্যানিটারি ফিটিংসসহ ভবনের কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক দৈনিক গণকন্ঠ কে জানান, মূলত অর্গানোগ্রাম ও জনবল অনুমোদন না পাওয়ার কারণেই ভবনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘শান্তিনিবাসের ভৌত অবকাঠামো এবং আসবাবপত্র পুরোপুরি প্রস্তুত। এটি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। তবে প্রয়োজনীয় পদে জনবল নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পদ সৃজনের প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। আশা করছি, আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে খুব দ্রুত এটি প্রবীণদের আশ্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।’
বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও লিফটের চুক্তি মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্প কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু না হওয়ায় নিয়মিত পরিচালন বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে কিছু বকেয়া ও চুক্তির মেয়াদসংক্রান্ত টেকনিক্যাল জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা চালুর সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করা সম্ভব হবে।


