তারেক রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলের রাজনীতির সূচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা দেশের হাটে-মাঠে গিয়ে তরুণ সমাজকে সংগঠিত করেছেন তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের বিএনপি রূপান্তরিত হয়েছে।
বুধবার সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বক্তব্য ও তথ্য বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘BNP Media Cell’ থেকে জানানো হয়েছে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী এ বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় প্রতিদিন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেন, তিনি তিনটি গুণের ধারক ও বাহক ছিলেন—শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সেবা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহস করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সেই জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের ধারক-বাহক হিসেবে আমরা মানুষের সেবা করে যাব।
বইয়ের ইতিহাস সম্পর্কে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বইয়ের ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে। তখন সর্বপ্রথম পাথর ও কাদার ওপর লেখার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই বইয়ের সৃষ্টির ইতিহাসের সূচনা।
তিনি বলেন, এরপর খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালের দিকে বই দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করে। পরে মিশর, চীন ও রোমে বইয়ের রূপান্তর ঘটে। তখন বইয়ের যে রূপ ছিল, সেটিকে বলা হতো স্ক্রল। তৃতীয় পর্যায়ের বইকে বলা হয় কোডেক্স।
মন্ত্রী বলেন, আজকের দিনের বইয়ের ধারণা রোম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর ঘটে জার্মানিতে, যখন ১৪৪০ সালে ছাপাখানার সৃষ্টি হয়। এটি ছিল প্রাচীন বইয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এরপর আসে ই-বুকের ধারণা।
তিনি আরও বলেন, যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির কারণে অনেক বুকশপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লাইব্রেরি জ্ঞানের সম্ভার। এ কারণে মঙ্গোলরা যখন কোনো অঞ্চল জয় করত, তখন সেখানকার সভ্যতা ধ্বংস করার জন্য লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিত।
মানব সমাজে বইয়ের গুরুত্ব এই ইতিহাস থেকেই অনুধাবন করা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পড়ার চর্চা হারিয়ে ফেলা যাবে না। লেখাপড়া ছাড়া কোনো জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না। এই সত্য প্রতিটি মানুষকে বুঝতে হবে।
