ঢাকাSaturday , 15 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খুলনা বিভাগ
  6. খেলা
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. ঢাকা বিভাগ
  10. ধর্ম
  11. প্রযুক্তি সময়
  12. বরিশাল বিভাগ
  13. বানিজ্য
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল, অভ্যুত্থানের পেছনে ছিল যেসব প্রেক্ষাপট

Link Copied!

স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নানা সংকটের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।

Advertisement

অভ্যুত্থানের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছিল। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে একদলীয় শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ—বাকশাল গঠন করা হয়। একই সময়ে চারটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্য সব পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এর পাশাপাশি দুর্নীতি, লুটপাট, চুরি-ডাকাতি ও চোরাচালানের অভিযোগে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনও সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছিল। এসব ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও গভীর হয়।

Advertisement

দুর্নীতি ও লুটপাটে সংকট

স্বাধীনতার পর কয়েক বছরের মধ্যেই প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সে সময় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনিয়ম, খাদ্যশস্য চুরি ও কালোবাজারির নানা অভিযোগ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।

দুর্নীতি ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সরকার একপর্যায়ে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামায়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরোধ তৈরি হয় বলে বিভিন্ন স্মৃতিকথায় উল্লেখ রয়েছে।

Advertisement

দলের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর একসময় সেনা সদস্যদের আবার ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে সেনাবাহিনীর একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে বলে বিশ্লেষকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তৎকালীন সংবাদপত্রেও সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যশস্য পাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যশস্য পাঠানোর সময় পথেই একটি অংশ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।

অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

দুর্ভিক্ষের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও চাপের মধ্যে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকে। শুধু বাড়িঘর নয়, ট্রেন ও নৌযানেও ডাকাতির ঘটনা ঘটত বলে সে সময়ের সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে উঠে আসে।

১৯৭৫ সালের আগস্টের শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঈশ্বরদীগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ডাকাতির ঘটনাও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই যাত্রী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান

১৯৭৫ সালের শুরুতে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার নিহত হওয়ার পর চরমপন্থী সংগঠনগুলোর তৎপরতা আরও বেড়ে যায় বলে সে সময়ের বর্ণনায় পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও রক্ষী বাহিনী চরমপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চরমপন্থী সদস্যদের নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়।

১৫ আগস্টের মাত্র দুই দিন আগে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এমন একটি অভিযানে চারজন চরমপন্থী নিহত ও একজন গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

খরার পর বন্যা

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রভাব তখনও পুরোপুরি কাটেনি। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আউশ ধানের চাষ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় খরা।

বৃষ্টির অভাব ও সেচ সংকটে আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। কৃষকদের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ। এর কিছুদিন পর পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল।

সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এতে ফসল ও সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানিও ঘটে। বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে এবং খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র হয়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীতে অসন্তোষের কারণ

বিভিন্ন স্মৃতিকথা ও তৎকালীন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তরুণ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ ছিলেন।

এ ছাড়া একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সেনাবাহিনী ও রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য এবং কিছু কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত বা অবসরে পাঠানোর ঘটনাও অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রক্ষী বাহিনীকে ঘিরে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব বিষয় সেনা কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান

সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতি ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। ১৯৭৫ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়।

সে সময় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। টিসিবির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া ব্যাংক রসিদ ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে।

এ ছাড়া তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। জুলাই মাসে তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা

তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ শেখ মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করতে থাকে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় মেজর সৈয়দ ফারুক রহমানকে এ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনার সঙ্গে মেজর খন্দকার আব্দুর রশিদসহ আরও কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা যুক্ত হন। ১৫ আগস্টকে অভ্যুত্থান বাস্তবায়নের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয় বলে বিভিন্ন স্মৃতিকথায় উল্লেখ রয়েছে।

চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গেও পরিকল্পনাকারীদের যোগাযোগ তৈরি হয়। তাদের মধ্যে মেজর শরীফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, আজিজ পাশা ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের নাম পাওয়া যায়।

মোশতাকের সঙ্গে যোগাযোগ

সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আহমেদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের আগস্টের শুরুতে মেজর রশিদের সঙ্গে মোশতাক আহমেদের বৈঠকের কথাও বিভিন্ন স্মৃতিকথায় উল্লেখ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেখ মুজিবকে উৎখাতের পর মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন—এমন একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে এসব বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে।

১৪ আগস্টের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

অভ্যুত্থানের আগের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট বর্ণনায় উঠে এসেছে।

পরবর্তীতে মামলার সাক্ষ্য ও বিভিন্ন স্মৃতিকথায় ১৪ আগস্ট ওই এলাকায় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। একই রাতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আড়ালে ট্যাঙ্ক, অস্ত্র ও সৈন্য নিয়ে সেনানিবাসে প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ আগস্ট ভোরে সেনা সদস্যরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অভিযান চালান। ওই ঘটনায় শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিরাপত্তা কেন দুর্বল ছিল

পরবর্তী তদন্ত ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসে, ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে তুলনামূলকভাবে কম নিরাপত্তা ছিল। বিপরীতে, ওই দিন শেখ মুজিবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।

অন্যদিকে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ছিল না বলেও পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে।

আগস্টের আগেও হামলার ঘটনা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর হামলার একটি ঘটনার কথাও বিভিন্ন নথিতে পাওয়া যায়। ২১ মে টেলিভিশন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বাসায় ফেরার পথে তার ওপর হামলা হয়েছিল বলে ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন দূতাবাসের একটি গোপন বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

হামলায় শেখ মুজিব অক্ষত থাকলেও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি আহত হন বলে ওই বার্তায় বলা হয়। হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

মার্কিন দূতাবাসের ওই নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি সে সময় সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ না করার জন্য সংবাদমাধ্যমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনাকে বোঝার ক্ষেত্রে ওই সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চরমপন্থী তৎপরতা এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উঠে এসেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।