আজ ১৫ আগস্ট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই কালরাতে ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই বর্বরোচিত হামলায় শিশু শেখ রাসেল ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য প্রাণ হারান।
ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ১৯৭৫ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বিচার প্রক্রিয়া রুদ্ধ করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন তৎকালীন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই কালো আইন বাতিল করে এবং ঘাতকদের বিচারের পথ সুগম করে। ১৯৯৮ সালে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আপিল বিভাগে মামলার গতি স্তব্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
রাজনৈতিক ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ আগস্টকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই রাষ্ট্রীয় ছুটি ও দিবসটির আনুষ্ঠানিক পালন বাতিল করে। যার ফলে বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক শোক কর্মসূচি থাকছে না।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা বিদেশে বা আত্মগোপনে অবস্থান করলেও, দলীয় সূত্রে অনলাইনের মাধ্যমে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও শোক বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মতো দলীয় অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং, মিলাদ মাহফিল এবং অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের মতো সীমিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেছেন প্রবাসী নেতৃবৃন্দ।
