মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে জনমত তৈরিতে ‘মায়ের ডাক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাজেদুল ইসলাম সুমন একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর স্মৃতি ও সংগ্রামকে স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ঐতিহাসিক লাউর ফতেহপুর খেলার মাঠে ‘সাজেদুল ইসলাম সুমন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। লাউর ফতেহপুর গ্রামের যুব সম্প্রদায় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এতে বিগত সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়।
সাজেদুল ইসলাম সুমনের স্মৃতিতে আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুমন ছিলেন এলাকার একজন কৃতী সন্তান। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, সানজিদা ইসলাম তুলি দীর্ঘদিন ধরে ‘মায়ের ডাক’-এর কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সংগঠনটি গুম, নির্যাতন, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো সামনে এনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত তৈরিতে কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে যেসব ঘটনা ও আন্দোলন ভূমিকা রেখেছে, সেগুলোর মধ্যে ‘মায়ের ডাক’-এর কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ আন্দোলনে সানজিদা ইসলাম তুলি ও সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ভূমিকা রেখেছেন। আর সাজেদুল ইসলাম সুমন এ সংগ্রামের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।
সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ দীর্ঘ সময়ের আন্দোলনে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মো. কামরুজ্জামান রতন, সানজিদা ইসলাম তুলি ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
