পুলিশ জনগণের প্রকৃত বন্ধু,
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময়ে পুলিশের ওপরে হামলা, থানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভীতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ওপর তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষ দূর করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের বিভিন্নভাবে কাউন্সেলিং এবং থানা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
মিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জানান,
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্যান্য থানার মতো মিরপুর মডেল থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকে থানার কার্যক্রম। নতুনভাবে থানা চালাতে কনস্টেবল থেকে শুরু করে পরিদর্শক (ওসি) পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদেরকে বদলি করা হচ্ছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামের ঘাটতিও রয়েছে এ থানায়। ফলে সেবা ও বিটভিত্তিক টহল কার্যক্রমে কিছুটা সংকটও দেখা দিয়েছে পুলিশের।
মিরপুর মডেল থানা এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেশ কয়েকটি ঘনবসতি এলাকা রয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই চুরি-ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন সমস্যা থানায় আসছেন অনেক সেবাপ্রত্যাশী।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট থানায় অগ্নিকাণ্ড, হামলা ও লুটপাটে অনেক লজিস্টিক সাপোর্ট এবং ইকুইপমেন্ট খোয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদর দফতর থেকে রিকুইজিশন দিয়ে বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট আনা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু— এটা কথায় নয়, সত্যিকারের জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করছি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল চাঙ্গা করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় পুলিশ সদস্যদের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সুসম্পর্ক গড়তে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও জনসাধারণের মধ্যে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিটি করপোরেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। তাদের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। মসজিদ ও এলাকাভিত্তিক সভার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটা ভালো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


