দেশে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যাহাদের নাম শোনামাত্রই শ্রোতার মনশ্চক্ষে দুর্নীতি আর অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র ভাসিয়া ওঠে। উহাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ অন্যতম।
গত কয়েক বৎসরে বহুবার তাঁহাকে রাজধানীর বিআরটিএ কার্যালয় পরিদর্শন করিতে দেখা গিয়াছে; যথায় তাঁহার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে বমাল ধরিবার ঘটনাও আমরা জানি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, তৎসত্ত্বেও দেশের সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে পরিস্থিতির কোনো ইতরবিশেষ ঘটিয়াছে বলিয়া প্রতীতি জন্মে না। উহারই সাক্ষ্য দিতেছে বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয়ে বিদ্যমান অনিয়ম ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য।
৩ অক্টোবর সকাল থেকে ম্যাজিস্টেড সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে অভিযান হয় মিরপুর বিআরটিএতে এতে আনসার কমান্ডার ফরিদ হাতে নাতে পাঁচজন আসামি ধরেন। সকলকে বিভিন্ন মেয়াদে সাঁজা প্রদান করা হয়।
এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার।
বস্তুত দেশের প্রায় সকল বিআরটিএ কার্যালয়েই অল্প-বিস্তর এই অবস্থা বিরাজমান; যথায় প্রতিদিন শত-সহস্র মানুষকে গাড়ির নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, উপযুক্ততা সনদ, নূতন লাইসেন্স গ্রহণ এবং নবায়ন, ডিজিটাল নাম্বারপ্লেটসহ মোটরযান সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যোপলক্ষে যাইতে হয়। এই কারণেই সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান হোতা অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালকেরা লাইসেন্স বাগাইয়া সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি চালাইতে পারিতেছে। একই কারণে সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়িরও প্রাধান্য পাইতেছে।
আমাদের প্রত্যাশা, সড়কে নিরাপত্তার স্বার্থে বিআরটিএর উপর ধারাবাহিক কঠোর নজরদারি চালানো হইবে। প্রয়োজনে তথায় জোরদার শুদ্ধি অভিযান চলিবে।


