সালমান খানের নতুন সিনেমা ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাদের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটির নাম পরিবর্তনের পর এবার এর গল্প ও দৃশ্যে পরিবর্তন আনার অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী দাবি করেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সিনেমাটির কিছু অংশ পরিবর্তনের জন্য নির্মাতাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে।
ধ্রুবের অভিযোগ, সিনেমার কিছু দৃশ্যে চীনের সমালোচনা থাকায় আপত্তি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছবিটির বেশ কিছু অংশ নতুন করে শুট করার চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে ধ্রুব বলেন, সিনেমাটি যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, সেভাবে মুক্তি দেওয়ার সাহস সরকারের নেই। তাঁর দাবি, নির্মাতাদের চীনকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার আশঙ্কাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ধ্রুব দাবি করেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কথা বলেন না; বরং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানিতে বসবাসকারী ধ্রুব রাঠী গত ১০ অক্টোবর দিল্লির একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক হয়েছিলেন। পরদিন আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন প্রসঙ্গের পাশাপাশি সালমান খানের সিনেমাটি নিয়েও কথা বলেন তিনি।
এদিকে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে সিনেমাটিকে মুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংশোধিত সংস্করণ দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। নতুন সংস্করণে ভারত-চীন সম্পর্ককে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ধ্রুব রাঠীর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিনেমাটি আগামী ১৩ নভেম্বর মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে মুক্তির তারিখ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে সিনেমাটির নাম ‘ব্যাটল অব গলওয়ান’ রাখা হয়েছিল। প্রকাশিত ঝলকে সালমান খানকে আহত এক সেনাসদস্যের চরিত্রে দেখা যায়। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। সিনেমাটির ঝলক প্রকাশের পর চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমেও আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সিনেমাটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’।
পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া অবশ্য জানিয়েছিলেন, ‘ব্যাটল অব গলওয়ান’ ও ‘মাতৃভূমি’—দুটি নামই শুরু থেকেই নথিভুক্ত ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি কেবল যুদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত নয়; বরং এতে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সেনাদের নীরব সংগ্রামের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।


