দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (৪৭) ও কাজী গুলশান আরাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দুই আসামি ও তাঁদের সহযোগীরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচার চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং তহবিল সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, পল্লবীর একটি বাসায় অবস্থান করে তাঁরা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও তাঁদের অবস্থান জানতে, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার, অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা এবং আসামিদের পরিচালিত অন্যান্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
রিমান্ডের বিরোধিতা করে দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন বলেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। তিনি রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। কাজী গুলশান আরার আইনজীবী মশিউর রহমানও রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা বা ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা নিজে কোনো অপরাধ নয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, আসামিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ডিবির নজরদারিতে ছিলেন। পরে পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে রিমান্ড আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন এবং আদালতের রিমান্ড আদেশ অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণ করে না।


