জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের (Kirill Lander-Weber) হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি পর্যটকের কাছে তুলে দেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ক্রিল বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন। গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য তিনি স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান তিনি।
ফিরে এসে তিনি ল্যাপটপ ও ক্যামেরা না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান। তাঁর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে গত ছয় মাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত ছিল।
ক্রিলের লিখিত অভিযোগের পর নাটোর সদর থানা, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়।
ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জার্মান পর্যটক ক্রিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় তাঁর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন আইজিপি।
আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা নিশ্চিত, দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপনের নির্দেশনা দেন।


