ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়নযাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনীতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার ‘পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন’—এই তিন ‘আর’ বা থ্রি-আর কৌশলকে ভিত্তি করে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এ মডেলের আওতায় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিল্প খাতে বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর সংযোগ তৈরিতে প্রবাসী পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ তৈরি করতে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, “আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হবে।”
প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল এবং মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা অংশ নেন।
