শীতকাল ছাড়া অন্যসময় সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া থাকলে মনটারে বুঝ দেওয়া যায় কিন্তু শীতকালীন সবজিতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে তবুও যেন সবজি কিনতে পারিনা। ৭০ টাকা ৮০ টাকার নিচে কোন সবজিই কিনতে পারিনা। ৩০০ টাকার সবজি একদিনেই শেষ হয়ে যায়। আমরা সাধারণ মানুষ কি খেয়ে বাঁচব? চাল,পিয়াজ,আলুর দামও নাগালের বাইরে। দাম কমানোর ব্যবস্থা না হলে মানুষের কষ্টের শেষ থাকবেনা। এমন-ই কথাগুলো বলল কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুরের বাসিন্দা মো. অহিদুজ্জামান ইয়াকুব।
তিনি আরো বলেন, আজ ৫০০ টাকা দিয়ে সবজি আর মাছ ক্রয় করছি যা দিয়ে ১ দিন পার হবে। মাসের ১৫ দিনেই বেতন শেষ হয়ে যায়। বাকী দিন ধারদেনা করে কাটাতে হয়।

আজ সকালে সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালীন নানা সবজিতে বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে। থরে থরে টাটকা নানা সবজি সাজিয়ে রাখা আছে। ফুলকপি,বাঁধাকপি,লাউ,সিম,বেগুনসহ নানা সবজি দেখা যায় খুচরা ও পাইকারি বাজারে। তবে তুলনামূলক তেমন কোন ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যায় না।
কিছুদিন ধরে শীত পড়া শুরু হয়েছে। শীতকালীন সবজিও সব বাজারে উঠে গেছে কিন্তু কোন সবজির দামই কমতির দিকে নেই এমনটাই বলেন আবু তালেব সবজি স্টোরের মালিক খুচরা ব্যবসায়ী মো. আবু তালেব। তিনি বলেন, আজ আমি পাইকারী বেগুন ৭০ টাকা,করল্লা ৭০ টাকা,পাতাকপি ৬০ টাকা,ফুলকপি ৭০,লাউ ৩০টাকা, মিস্টিকুমড়া ৩৫ টাকা,কাঁচামরিচ ৮০ টাকা,সিম ৯০ টাকা,ঢেড়শ ৫০ টাকা,কাঁচাকলা ৪০ টাকা হালি ক্রয় করেছি। প্রতি আইটেমে যদি ১০ টাকা বাড়তি ধরি তাইলেই ক্রেতারা রাগ হয়ে যায়। আমাদের বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আমরা যদি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বেশি বিক্রি না করি তাহলে সংসার চলবে কি করে?

এ বিষয়ে পাইকারি ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও দাম কমেনি। দেশের বিভিন্ন যায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে সবজি ক্রয় করে নেয়। চাহিদা বাড়ছে কিন্তু সে হিসেবে যোগান বাড়েনি। তাই শীতকালীন সবজির দাম পড়ছেনা নিচের দিকে।
সবজি উৎপাদনকারী মো. তাইয়্যেবুর সিকদার বলেন, এখনো পুরোপুরি সবজি আসেনি। আগাম শীতকালীন সবজিতে আমরা দাম ভালো পাই। তবে আগামী সপ্তাহে সব সবজি বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসাইন বলেন, শীতকালীন সকল সবজি এখনো বাজারে আসেনি। বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির উপস্থিতি বেশি তাই দাম কমতি নেই। এ সপ্তাহের শেষে হয়ত দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে। পাশাপাশি আমরা নজরদারি করছি কোন ধরনের সিন্ডিকেট যাতে তৈরি না হয়।
