গাইবান্ধায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শাহ জিরা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও চোরাচালান চক্রের কথিত মূলহোতা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন।
তিনি জানান, পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মোত্তালিব সরকারের নেতৃত্বে বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ট্রলিযোগে পলাশবাড়ীর দিকে নেওয়া হচ্ছিল এমন ৮৮ বস্তা শাহ জিরাসহ শাহজালাল ইসলাম (২৫) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাশবাড়ী ওভারব্রিজ এলাকার নিচে অভিযান চালিয়ে নওশাদ হাসান ওরফে আতিক (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে পলাশবাড়ী উপজেলার গণেশপুর বাজারের একটি গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে আরও আলামত উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মোট ৮৮ বস্তা শাহ জিরা জব্দ করা হয়েছে, যার ওজন প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি। জব্দকৃত এসব শাহ জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া অভিযান থেকে ৩০টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা, ভারতীয় চিহ্নযুক্ত ১০টি খালি বস্তা এবং একটি সেলাই মেশিনচালিত ট্রলি জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছেন, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহিন আলম (৩২) এই চোরাচালান চক্রের মূলহোতা। তবে অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫-বি(১)(বি) ও ২৫-ডি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মোত্তালিব সরকারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
