ঢাকাFriday , 28 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রংপুরের চার হত্যাকাণ্ড: পুলিশের ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি দেখছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র

Link Copied!

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সময় ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

Advertisement

গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট আসকের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে সরেজমিনে তদন্ত করে। তারা নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশী, অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি মর্গ, হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেন। বৃহস্পতিবার আসক তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে।

রাত ২টা ৪০ মিনিটের ফোনকল নিয়ে প্রশ্ন

আসকের পর্যবেক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর মোবাইল ফোন থেকে করা একটি কল।

Advertisement

আসককে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বোনের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। কিন্তু পরদিন মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, রাত ২টা ৪০ মিনিটে প্রীতিলতার নম্বর থেকে তার কাছে একটি কল করা হয়েছিল। সে সময় তিনি ফোনটি ধরতে পারেননি।

পূজার ভাষ্য অনুযায়ী, এত রাতে প্রীতিলতা সাধারণত ফোন করতেন না। ফলে কলটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

Advertisement

আসকের মতে, পুলিশের বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে এই ফোনকলের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কলটি কে করেছিলেন, কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, তখন ফোনটির অবস্থান কোথায় ছিল এবং পরিবারের সদস্যদের মোবাইল কখন বন্ধ হয়েছিল—এসব তথ্য কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য

ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, ভোরের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবন করতে যান। গণপতি তাদের বাধা দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়।

পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানায়। হত্যার পর পরিচয় গোপন রাখতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আসকের প্রতিনিধিদের জানান, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ওই বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করেন, খাবারও খান। পরে পরিস্থিতি অনুকূল হলে সেখান থেকে চলে যান।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয় এবং পরে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে বদলে যায় পুলিশের বক্তব্য

তবে হত্যাকাণ্ডের সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরে পরিবর্তন আসে।

২৩ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছিল, গণপতি চক্রবর্তীকে ভোরে বাড়ির ছাদে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয় বলে তখন জানানো হয়েছিল। সে সময় পুলিশ বলেছিল, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই দুই তরুণ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

কিন্তু বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে সিদ্ধার্থ দাসের বিরোধ বা অসন্তোষও হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে।

সিদ্ধার্থের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গণপতি চক্রবর্তীরা সিদ্ধার্থের পূর্বপুরুষের জমি কিনেছিলেন। ওই জমির মূল্য তুলনামূলক বেশি হলেও সিদ্ধার্থের পরিবারের শরিকেরা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি—এমন একটি বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল—আগের বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রথমদিকে অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছে, শিশুটি ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখতে পেয়েছিল।

ফরেনসিক আলামত যাচাইয়ের দাবি আসকের

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা যদি সত্যিই কিছু সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে সেখানে তাদের ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, ত্বকের কোষ, চুলসহ বিভিন্ন ধরনের ফরেনসিক আলামত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে আসক।

সংস্থাটি বলছে, ঘরের বিভিন্ন স্থান, বাথরুম, পানির উৎস, খাবারের পাত্র, দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র থেকে এসব আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

আসকের মতে, পুলিশের বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি স্বাধীন ও বস্তুগত প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

পরিবারের স্বজনদের বক্তব্যও যাচাইয়ের আহ্বান

আসকের প্রতিনিধিদের কাছে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরাও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ছেলের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মুগ্ধ দাসের মা সেনা রানী দাসও তার ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সন্দেহভাজন সীমান্ত চন্দ্র দাসের বাবা-মায়ের দাবি, ঘটনার রাতে সীমান্ত তাদের বাড়িতেই ছিলেন। তবে সিদ্ধার্থ কিছু সময় তাদের বাড়িতে গেলেও রাতে সেখানে অবস্থান করেননি।

আসক বলছে, এসব বক্তব্যও অন্যান্য তথ্য, ডিজিটাল রেকর্ড ও বস্তুগত আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই চূড়ান্ত ভিত্তি

আসকের প্রতিনিধি দল রংপুরের মর্গের ইনচার্জ সাহেব আলী ও ডোম যতন কুমারের সঙ্গেও কথা বলে। যতন কুমার জানান, মরদেহগুলো পচনশীল অবস্থায় ছিল। তিনি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখেননি। তবে শরীরের কিছু অংশে আঘাতের চিহ্ন মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিহত দুই নারীর শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত চোখে পড়েনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আসক জানিয়েছে, মর্গকর্মীর পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনই নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, আলামত নষ্টের অভিযোগের তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আলামত নষ্টের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

আসকের মতে, রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—রাত ২টা ৪০ মিনিটে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ফোন থেকে কলটি কে করেছিলেন এবং তখন বাড়ির ভেতরে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটছিল।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএসহ সব ধরনের ডিজিটাল ও বস্তুগত আলামত সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।