ঢাকাThursday , 27 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারের ছয় মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিনে নেট মিটারিং সংযোগের মাধ্যমে নতুন করে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাতকে আরও টেকসই করার কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেট মিটারিং, এনার্জি স্টোরেজ, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি দক্ষতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ট্যারিফ ব্যবস্থা গুরুত্ব পেয়েছে।

Advertisement

অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় দুই বিভাগের বেশিরভাগ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দুই বিভাগ মিলিয়ে সামগ্রিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশে।

বিদ্যুৎ খাতে অগ্রগতি

প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্রেডার উদ্যোগে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে।

Advertisement

মার্চেন্ট পলিসির আওতায় চারটি মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ বায়োমাস, বায়োগ্যাস, ক্লিন কুকিং, এনার্জি স্টোরেজ, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ব্যবসায়িক মডেলও তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অফশোর উইন্ড পাওয়ার প্রকল্প উন্নয়নের গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে ঈশ্বরদী ও ভুলতা গ্রিড উপকেন্দ্রে যথাক্রমে ১২০ মেগাওয়াট ও ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলায় বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ৩০টি ডেজিগনেটেড কনজুমারের স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

গ্যাস উৎপাদনেও অগ্রগতি

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সাতটি গ্যাসকূপ খনন এবং চারটি কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-১০ ও ১১, শ্রীকাইল-৫, রশিদপুর-১১, তিতাস-২৮ এবং সুন্দলপুর-৪—এই ছয়টি কূপের খনন শেষ হয়েছে।

এসব কূপ থেকে প্রতিদিন মোট ২১ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ার্কওভার শেষ হওয়া চারটি কূপ থেকে প্রতিদিন আরও ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন করে দৈনিক ৩২ দশমিক ০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সারা দেশে ৫০টি কূপ খননের বড় কর্মসূচির আওতায় ২৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ হাজার হর্স পাওয়ারের একটি রিগ কেনার দরপত্র মূল্যায়ন চলছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ারের রিগ কেনার ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬-এর আওতায় বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬-এর খসড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ডি সাইসমিক সার্ভের ৫০০ লাইন কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে ৩ডি সাইসমিক সার্ভের ১০০ বর্গকিলোমিটার কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ

দেশীয় জ্বালানি অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পর্যালোচনার পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে পিপিপি পদ্ধতিতে ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের জন্য ইওআই আহ্বান করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের লক্ষ্যে মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইআরএল প্রকল্পের কনসালট্যান্ট নিয়োগের জন্যও ইওআই আহ্বান করা হয়েছে।

পাঁচ মাসে কমেছে সিস্টেম লস

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসে জ্বালানি খাতে সিস্টেম লস ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের ট্যারিফ নির্ধারণের কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।

শিল্প খাতে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় গ্যাস বরাদ্দসংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য নেওয়া কার্যক্রমের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।