রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় দস্যুতার প্রস্তুতিকালে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের’ সক্রিয় তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব-২।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রাফাত চকদার (২৫), মো. হানিফ হোসেন ওরফে জয় (২৬) এবং মো. চাঁন মিয়া (২০)।
র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত দস্যুতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে র্যাব-২-এর একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে একটি সামুরাইসহ আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যানুসন্ধানে র্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার তিনজন ‘কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পরের যোগসাজশে মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
র্যাব আরও জানায়, ‘কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের’ প্রধান আনোয়ারসহ গ্রুপটির অধিকাংশ সদস্যকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম ওরফে রাফাত চকদারের বিরুদ্ধে ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি এবং আদাবর থানায় ডাকাতির একটি মামলা রয়েছে।
হানিফ হোসেন ওরফে জয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা রয়েছে। র্যাবের দাবি, তিনটি মামলার অভিযোগপত্রে জয় অভিযুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও মাদকসংক্রান্ত দুটি এবং আদাবর থানায় ডাকাতির একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধার করা সামুরাইসহ সংশ্লিষ্ট আলামতও আইনগত প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
