নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি লঞ্চঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও শ্রমিক দলের অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। হাতিয়া থানা পরিদর্শক (তদন্ত) খোরশেদ আলম জানান, কামরুল ইসলাম নামে শ্রমিক দলের এক কর্মী বাদী হয়ে শনিবার সকালে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে তমরুদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার তান্নাসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকালে তমরদ্দি লঞ্চঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার তান্নার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘাটে এবং পাশে শ্রমিকদের থাকার ঘর ও শ্রমিক দলের অফিস ভাঙচুর করে। তাদের হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় লায়লা নামে এক নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হাতিয়া তমরদ্দি লঞ্চঘাটের ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাওলা কাজল। ৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের লোকজন ঘাটের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। পরবর্তীতে ইজারাদার ও আওয়ামী লীগের গোলাম মাওলা কাজলের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলমগীর সমঝোতা হয়। তারপর বিএনপি নেতা মোঃ আলমগীরের সমর্থকেরা ঘাটটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। কিন্তু তমরদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা তানভীরের নিয়ন্ত্রিত পতিত আওয়ামী লীগের গডফাদার মোহাম্মদ আলী ও তার দোসর হানিফ ডাকাতের সহায়তায় লঞ্চঘাট দখলে নিতে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও ঘাট শ্রমিকদের উপর দেশীয় অশ্রসস্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।
এছাড়া বিএনপি নেতা তানভীর হায়দার কান্নার বিরুদ্ধে পতিত জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর সাথে গোপন সমঝোতা ও বাসায় যাতায়াতসহ তৃণমূল কর্মীদের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।


