গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুটি খাল খনন প্রকল্পে সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অব্যয়িত ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেতে বিলম্ব এবং এরই মধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রকল্প দুটির কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল খনন প্রকল্পের জন্য ওয়েজ কস্ট (শ্রমিকের মজুরি) এবং নন-ওয়েজ কস্ট (যন্ত্রপাতি, জ্বালানি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যয়) খাতে পৃথকভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের কাশদহ-নান্দিনা খাল খনন প্রকল্পে ওয়েজ কস্ট খাতে ২০ লাখ ৫০ হাজার ৪৯২ টাকা এবং নন-ওয়েজ কস্ট খাতে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬৪ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে বরাদ্দ নির্ধারিত সময়ের পরে পাওয়ায় এরই মধ্যে বর্ষা শুরু হয়ে যায়। ফলে প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে দুই খাতের মোট ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পে ওয়েজ কস্ট খাতে ১৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার খননকাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৭ লাখ ১৪ হাজার ১৮ টাকা অব্যয়িত থেকে যায়।

একই প্রকল্পে নন-ওয়েজ কস্ট খাতে ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৯ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ অর্থও সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
দুই প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৩ টাকা অব্যয়িত থেকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, “কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারিত সময়ের পরে পাওয়া যায়। এ সময়ের মধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় খাল খননের কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী অব্যয়িত অর্থ ৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সময়মতো খাল খননের কাজ শেষ হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। তবে বরাদ্দ পেতে বিলম্ব এবং মৌসুমি প্রতিকূলতার কারণে প্রকল্প দুটির প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে স্থানীয় জনগণ।
