পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ ছয়টি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কলেজ ক্যাম্পাসে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেলে শুরু হয় কাওয়ালি সন্ধ্যা, যা রাত পর্যন্ত চলে। কাওয়ালি পরিবেশনা উপভোগ করেন কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, নৈতিক শিক্ষা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তারা। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সন্ধ্যায় শুরু হওয়া কাওয়ালি অনুষ্ঠানে একের পর এক পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অতিথিরাও আয়োজনটি উপভোগ করেন।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিম সিয়াম বলেন, দিনের শুরুতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিল। সন্ধ্যার কাওয়ালি অনুষ্ঠানটিও ছিল ব্যতিক্রমী। কলেজে এ ধরনের আয়োজন সাধারণত দেখা যায় না। তাই অনুষ্ঠানটি তার কাছে প্রশংসনীয় লেগেছে।
আয়োজন সফল করতে কলেজ ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কলেজের রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটের স্বেচ্ছাসেবকরাও অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান মুন্না বলেন, অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আয়োজন সফল করতে যারা পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ভবিষ্যতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক আরও আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ হিসেবে এবার তিনি এ আয়োজন করেছেন। এর আগেও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।


