রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মিরপুর আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন হোপ মার্কেট এলাকা।
উচ্ছেদ অভিযানকালে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দোকান। আর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও হকারদের সংঘর্ষ ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার পর এই আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি করপোরেশন থেকে উচ্ছেদ অভিযানের সময় রোলার দিয়ে দোকান ভাঙতে গেলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর এই আগুনে বাইতুল কুদ্দুস জামে মসজিদের নিচে থাকা ৬ থেকে ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে বেশ কয়েকটি টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর-১০ এলাকা থেকে ১৩-১৪ নম্বরমুখী সড়কে মিরপুর আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন হোপ মার্কেট এলাকার বাইতুল কুদ্দুস জামে মসজিদের নিচে থাকা কয়েকটি কাপড়ের দোকান, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিকসের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ ছাড়া এর আশপাশের এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ চালানোর ফলে বাঁশ-কাঠ পড়ে থাকতেও দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রধান সড়কজুড়ে ভাঙচুর হওয়া কাচের টুকরা ও ভাঙা ইটের টুকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া সড়কের মাঝে পুড়িয়ে দেওয়া সিটি করপোরেশনের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুমাইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাশেই আমাদের বাসা। বাসার ওপর থেকে দেখছি। একটা গাড়ি আসছিল। ওই গাড়ি দিয়ে ভাঙচুর করার সময় আগুন ধরে যায়।’
মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘ওপরে মসজিদ ছিল। নিচে দোকান। এগুলো তো ভাঙার দরকার ছিল না। এই দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়েই দোকানে আগুন লাগছে। এই লাইনের সব দোকান ভেঙে দিয়েছে।’
এদিকে, এর আগে ঘটনার সূত্রপাত ঘটলে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনা নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছি।’


