গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় জেলার চারটি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৫০০ পরিবারকে শর্তহীনভাবে এককালীন ৬০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
‘চয়েস, হোপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (চর) বাংলাদেশ প্রকল্প’ নামে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)। আন্তর্জাতিক সংস্থা গিভডিরেক্টলির সহযোগিতায় পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত চরাঞ্চলীয় পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার সকালে গাইবান্ধায় জিইউকে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে আয়োজিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন এবং সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মোট ৮ হাজার ৫০০ পরিবার এ সহায়তার আওতায় আসবে। প্রত্যেক পরিবারকে দুই ধাপে মোট ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে চলতি নভেম্বর মাসে প্রথম কিস্তিতে ৯ হাজার টাকা এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় কিস্তিতে অবশিষ্ট ৫১ হাজার টাকা বিতরণ করা হবে।
প্রকল্পের বিষয়ে এম. আবদুস্ সালাম বলেন, অনুদানের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপকারভোগী পরিবারগুলোর ওপর কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়নি। তারা নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে। ঘরবাড়ি মেরামত, গবাদিপশু কেনা, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার, সন্তানদের শিক্ষা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়সহ বিভিন্ন কাজে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সরাসরি আর্থিক সহায়তা চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পাবে।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জিইউকের পরিচালক আবু সায়েম মো. জান্নাতুন নূর রিশাত, গিভডিরেক্টলির অ্যাসোসিয়েট ফিল্ড ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী জয়া প্রসাদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


