শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। টানা তিন দিন নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, আয়োজক ও ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আর্থিক সহযোগিতা দেন।
দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রহমাতুল্লাহ। এ সময় তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং সংশ্লিষ্ট মণ্ডপের আয়োজনে সহযোগিতা করেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু দুর্গাপূজা নয়, প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে থাকার চেষ্টা করেন রহমাতুল্লাহ। এবারের দুর্গোৎসবেও তাঁর ধারাবাহিক উপস্থিতি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ভানু লাল দে বলেন, দুর্গোৎসব উপলক্ষে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ নগরীর সব পূজামণ্ডপে এসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তিনি বিভিন্ন মণ্ডপের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি পূজার আয়োজনে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন।
তিনি বলেন, তাঁর উপস্থিতি ও আন্তরিকতা ভালো লেগেছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।
মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, রহমাতুল্লাহ নগরীর প্রত্যেকটি মন্দিরে গিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফুলেল শুভেচ্ছার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতাও করেছেন। তাঁর আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে তাঁরা সন্তুষ্ট।
আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তাঁরা ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে এবং প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করবে—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
রহমাতুল্লাহ বলেন, ধর্মীয় উৎসব শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এসব আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে। দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রেখে বরিশাল নগরীতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ ভবিষ্যতেও নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারবেন।


