পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আঞ্চলিক কার্যালয়, পটুয়াখালীর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এবারের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—“Shared Vision for a Better World – Affordable and Clean Energy”। এর বাংলা অর্থ—“অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব—সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি”।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী আশরাফুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, বিপিএম (সেবা) এবং সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহসিন উদ্দীন।
সভায় বিএসটিআইয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে স্লাইড প্রদর্শনের মাধ্যমে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, পটুয়াখালীর উপপরিচালক (পুরকৌশল ও যন্ত্রকৌশল) ও অফিসপ্রধান মো. মুরসালীন মাহফুজ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ, বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, একে অপরকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিতভাবে সচেতনতা বাড়ানো গেলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে। পণ্যের মান বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানোর মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের দুপুরের খাবারের আয়োজন করেন বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভায় পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ, ভেজাল প্রতিরোধ এবং সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানসম্মত পণ্য ও নিরাপদ ভোক্তা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।


