ঢাকাFriday , 9 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড, ১৫ বছরের চুক্তিতে কী থাকছে?

Link Copied!

শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরোধিতা ও বিক্ষোভের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। তবে টার্মিনালের মালিকানা থাকছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি এনসিটি। ২০০৭ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার প্রায় অর্ধেক এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

Advertisement

চুক্তিতে কী থাকছে?

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর এনসিটির পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। দুই পক্ষ সম্মত হলে পরবর্তী সময়ে চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালটির আধুনিকায়নে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি চুক্তি স্বাক্ষরের অর্থ হিসেবে বাংলাদেশ ৬০০ কোটি টাকা পাবে বলে জানান তিনি।

Advertisement

মন্ত্রীর ভাষ্য, বন্দর ইজারা দেওয়া এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া এক বিষয় নয়। এনসিটির মালিকানা, নিরাপত্তা ও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার হাতেই থাকবে।

তিনি বলেন, টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো এবং পণ্য খালাসে অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দর থেকে প্রতিবছর ১০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে এবং রাজস্বের ৬৭ শতাংশ পাবে সরকার।

কীভাবে চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল?

এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের আলোচনা বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছিল। ২০১৯ সাল থেকে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালের মার্চে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয়। তবে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরোধিতা, বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের মুখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

তখন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছিল। দলটির নেতারা সে সময় বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি আবারও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। চলতি বছরের ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়।

চুক্তি সম্পন্ন হতে এত সময় লাগার বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগের সরকারের সময়ে উদ্যোগটি নেওয়া হলেও বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার কয়েক মাস আলোচনা করে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। চুক্তিটিকে নির্বাচিত সরকারের অর্জন হিসেবেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

শ্রমিকদের আপত্তি কোথায়?

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার চুক্তি স্বাক্ষরের দিনও ইনভেস্ট বাংলাদেশের অডিটরিয়ামের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অবস্থান নেন।

শ্রমিকদের বক্তব্য, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালনা করা উচিত। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলে পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে এবং দেশীয় কর্মীদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে কমিশন বা অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তার মতে, দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েও টার্মিনালের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবর্তে পায়রা ও মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানো হচ্ছে না কেন।

সক্ষমতা বাড়বে, তবে অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলমের মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় এনসিটির সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন্দরের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে পরিবহণ ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান জরুরি।

তার ভাষ্য, বন্দরের প্রায় ৭০ শতাংশ কনটেইনার ঢাকামুখী হলেও সেগুলো পরিবহণের জন্য পর্যাপ্ত ল্যান্ড করিডর নেই। রেলপথেও কনটেইনার পরিবহণের সুযোগ সীমিত। পাশাপাশি জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বন্দরে কনটেইনার চার দিন বিনা মূল্যে রাখার সুযোগ রয়েছে। এরপর স্টোর রেন্ট বা সংরক্ষণ ভাড়া দিতে হয়। তবে বন্দরের প্রকৃত কার্যকারিতা মূল্যায়নে শুধু এই আয় নয়, সামগ্রিক পরিচালন মুনাফাও বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে কোনো কর্মী যেন চাকরি না হারান, সেটিও নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে যা বলছে সরকার

শ্রমিকদের উদ্বেগের বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, এই চুক্তির কারণে শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই। বরং ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রী মনে করেন, যেকোনো বড় পরিবর্তনের সময় কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানো কিংবা নিজেদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে সরকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই চুক্তি করেছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে চুক্তির আর্থিক শর্ত, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
design and development by: Kishor Kumar