শিশু-কিশোর ও তরুণদের মরণনেশার হাত থেকে রক্ষা করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।
তিনি বলেন, মাদকমুক্ত ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় শিশুদের প্রথম শিক্ষক মা এবং সুরক্ষার অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো খেলাধুলা।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুরুল হক ভিআইপি কনফারেন্স হলে ‘বিশ্ব শিশু দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান মন্ত্রী। সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরাম ও সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সাচিং প্রু বলেন, শিশু, কিশোর ও যুব সমাজই আমাদের মূল সম্পদ। আমাদের সন্তানরা সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায় তাদের মায়ের কাছ থেকে। পারিবারিক শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক অভ্যাস গঠনে মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই পরিবার ও সমাজে মায়েদের সর্বদা শ্রদ্ধার আসনে রাখতে হবে।
নিজের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি স্মরণ করে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, আমার শৈশবে খেলাধুলাই আমাকে সব ধরনের বাজে নেশা ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখেছিল। খেলাধুলার ব্যস্ততা আমাকে কখনো কোনো মন্দ কাজে পা বাড়াতে দেয়নি।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে তরুণ ও যুব সমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
সীমান্তবর্তী ও দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর বাস্তব চিত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ সীমান্তসংলগ্ন কিছু এলাকার উদীয়মান তরুণরা মাদকের কারণে ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। তাদের এই মরণনেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে কক্সবাজার ও আমার নির্বাচনী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা এখন বাস্তবায়নের পথে।
মাদকের অপব্যবহার রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে সাচিং প্রু বলেন, আমাদের ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে মাদকের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।
যারা এরই মধ্যে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে, সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে তাদের সুস্থ সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।
জাপানি তরুণদের সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, জাপানের শিশুরা অত্যন্ত সুসংবদ্ধ এবং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে শিক্ষার প্রতিফলন দেখা যায়। আমাদের শিশুদেরও ভালো কিছু শেখার ও জানার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা প্রকৃত মানুষ হতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোটি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে সরকার স্পোর্টস ইভেন্টের যে আয়োজন করেছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো আমাদের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও মাদকমুক্ত রাখা। অনাগত শিশুদের জন্য আগামী দিনের বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা এবং রূপগঞ্জ ইউথ ফ্রন্টের সভাপতি ও বিশিষ্ট যুব সংগঠক নুরন্নবী ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরামের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিশু সংগঠন ফেডারেশনের সহসভাপতি হাজী লায়ন এ সরকার বাবু।
অনুষ্ঠানে সার্বিক শিশু কল্যাণে এ ধরনের গঠনমূলক আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখার জন্য আয়োজকদের অনুপ্রাণিত করেন মন্ত্রী।


