র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে আয়োজিত একটি টেলিভিশন টকশোতে আলোচনার একপর্যায়ে সঞ্চালকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
আলোচনায় বাবুল র্যাবের কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সঞ্চালক সাম্প্রতিক ছয় মাসের একটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরে তার বক্তব্যের সঙ্গে বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
সঞ্চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি, বাংলাদেশ পুলিশের হ্যান্ডকাফ ও কালো স্কচটেপসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ডিবি সূত্রের বরাত দিয়ে সঞ্চালক দাবি করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বর্তমানে র্যাবে কর্মরত সক্রিয় কর্মকর্তা।
এই তথ্য উপস্থাপনের পর বাবুল ও সঞ্চালকের মধ্যে কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বাবুল বলেন, তিনি র্যাবের ‘খুন করার কথা’ বলছেন, অথচ সঞ্চালক অন্য একটি ঘটনার তথ্য সামনে এনেছেন। জবাবে সঞ্চালক বলেন, বাবুল যে গত ছয় মাসের সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছেন, সেই সময়ের মধ্যকার একটি ঘটনাই তিনি আলোচনায় এনেছেন।
‘এখানে আমার আসা ভুল হয়েছে’
একপর্যায়ে বাবুল অভিযোগ করেন, টকশোতে তিনি একাই সরকারি দলের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বিপরীতে অন্য তিনজন সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এখানে আমার আসা ভুল হয়েছে।’
এরপর টেলিভিশন চ্যানেলটির অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও মন্তব্য করেন বাবুল। তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে সঞ্চালক বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনা করছেন না; বরং আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি নির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেছেন।
সঞ্চালক আরও বলেন, শুধু একটি তথ্য উপস্থাপনের কারণে পুরো অনুষ্ঠান বা চ্যানেল সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।
তবে বাবুল সঞ্চালকের অবস্থানকে ‘বায়াসড’ বা পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই টকশো করব না।’ সঞ্চালক তাকে আলোচনায় থাকার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও তর্ক থামেনি। পরে বাবুল চেয়ার ছেড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান।
আগের টকশো নিয়েও বিতর্ক
শহিদুল ইসলাম বাবুল এর আগেও টেলিভিশন আলোচনায় বক্তব্য ও বিতর্কের কারণে আলোচনায় এসেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে একটি টকশোতে তথ্যগত বক্তব্য নিয়ে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে তার বিতর্কের ঘটনা সামনে আসে।
ওই সময় বাবুলকে তথ্য যাচাই ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় আসার পরামর্শ দেওয়া হলে পাল্টা বক্তব্যে তিনি সারোয়ার তুষারকে ‘বাছুর’ বলে সম্বোধন করেন বলে আলোচনায় আসে।
এবারের টকশোতে মাঝপথে বাবুলের অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়
তবে টকশোতে আলোচিত র্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য, মামলার নথি কিংবা র্যাবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া বিষয়টিকে র্যাবের ‘গুমের খাসলত’ বা বাহিনীতে কোনো পরিবর্তন হয়নি—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
র্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে আয়োজিত ওই আলোচনার মূল বিষয় শেষ পর্যন্ত বাহিনীর কার্যক্রম থেকে সরে অনুষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা ও সঞ্চালকের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কে গড়ায়। আর সেই বিতর্কের একপর্যায়ে টকশো ছেড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান বিএনপির সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
