সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। উৎসবকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানিয়েছে, জন্মাষ্টমীর আয়োজন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য চরমপন্থি গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠনসহ বিভিন্ন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন মন্দির, পূজামণ্ডপ, অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
র্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আগাম তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা
জন্মাষ্টমীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা, পুরোহিত এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। শোভাযাত্রার সামনে, পেছনে ও দুই পাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রাখা হবে সংরক্ষিত বাহিনীও।
সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে নজরদারি
জন্মাষ্টমী শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য র্যাবের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে—এমন গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য, ছবি ও অন্যান্য অনলাইন কনটেন্ট শনাক্ত এবং সেগুলোর বিস্তার ঠেকাতে র্যাবের সাইবার নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
