মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন এবং ডিজিটাল দাওয়াহ ও মিডিয়াভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।
তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইসলাম প্রচার ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্যাক্টচেকিং, ডেটা ব্যবস্থাপনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন কোর্স এবং ডিজিটাল প্রকাশনার মতো ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক পরিসরেও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কলেজের অডিটোরিয়ামে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ভিসি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহ্য ও মান আরও সমৃদ্ধ করতে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক পাঠ, একাডেমিক লেখা এবং জার্নাল প্রকাশে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসিক হোস্টেলগুলোতে গ্রুপ স্টাডি ও ডিবেট ক্লাব চালুরও আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বক্তারা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাদরাসা পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমেদ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর মো. নওসের আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. নেছারুল করীম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ সলিমুল্লাহ এবং জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল ইয়াহিয়া মুহাম্মদ মহসিন।
সেমিনারে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সদস্যরা অংশ নেন।

