দুই থেকে তিন ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হলেই ঢাকার সড়কগুলো যেন পরিণত হয় জলাশয়ে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে, থমকে যায় নগরজীবন, নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা। বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় একই চিত্র।
প্রতি বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। বছর বছর বাড়ছে বরাদ্দের পরিমাণও। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণ ও খাল উদ্ধারসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে শত শত কোটি টাকা। তবু জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না ঢাকাবাসী। দায়িত্ব, নেতৃত্ব ও কাজের ধরন বদলালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক দশকে নয়টি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ২৫ বছর মেয়াদি একটি বিশদ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে ঢাকা ওয়াসা। এক দশক পেরিয়ে গেলেও এর প্রথম পর্ব বাস্তবায়ন হয়নি; দ্বিতীয় পর্বেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নতুন কোনো সমস্যা নয়। স্বাধীনতার পরও বৃষ্টি হলেই নগরীর বিভিন্ন অলিগলি পানিতে তলিয়ে যেত। তবে সে সময় ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় জলাবদ্ধতার পরিসরও ছিল সীমিত। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাকিস্তান আমলেই ঢাকার জন্য প্রথম পানি নিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
এক দশকে ব্যয় ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা
ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক দশকে নালা নির্মাণ ও সংস্কার, খাল পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন কাজে অন্তত ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০—এই দুই অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নালা নির্মাণ ও সংস্কারে ৬০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৭১১ কোটি টাকা খরচ করে। প্রায় একই সময়ে ঢাকা ওয়াসার জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তিন সংস্থার ব্যয় মিলে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।
এরপর ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব যায় দুই সিটি করপোরেশনের হাতে। পরের চার বছরে তারা আরও অন্তত ৭৩০ কোটি টাকা খরচ করে। আগের ১ হাজার ৪১৬ কোটির সঙ্গে এ ব্যয় যোগ করেই ২০২৪ সাল পর্যন্ত অঙ্কটি ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। হিসাব করলে দেখা যায়, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
এর বাইরে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ ছিল ১৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসসিসির ১১৫ কোটি এবং ডিএনসিসির ৫০ কোটি টাকা। এত অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার কারণ হিসেবে অনিয়ম ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কথা এসেছে।
ড্রেন নির্মাণেও মিলছে না সুফল
খরচের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শান্তিনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে। মালিবাগ রেলক্রসিং থেকে বিজয়নগর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার স্টর্ম ড্রেনেজ লাইন নির্মাণে ওই অর্থ খরচ করা হয়।
ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন ড্রেনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি গন্তব্যে পৌঁছালেও এরপর আর তা সরানো যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ঢাকা ওয়াসার ভাটিতে থাকা পাম্প স্টেশনগুলোর পর্যাপ্ত নিষ্কাশনক্ষমতা না থাকার কথা জানিয়েছেন তারা।
টাকা খরচ হলেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক এলাকার বাসিন্দারা। ২০২১ সালে ওই সড়কের নিচ দিয়ে ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটারের ড্রেন নির্মাণ করে ডিএসসিসি। সেখানে ‘আরসিসি’ ড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও পরে নকশা পরিবর্তন করে কংক্রিটের পাইপলাইন বসানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রধান ড্রেনটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে পলিমাটি ও বর্জ্য জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বেইলি রোডের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ
প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বেইলি রোডে ডিএসসিসির ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়ন কার্যক্রমে। নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়া রাতে ঢালাইয়ের কাজ করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত ২ আগস্ট ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ
বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমজুড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলজটে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। গতকাল রোববারও নগরীতে ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪১টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ ‘হটস্পট’ রয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসিতে ১০৮টি এবং ডিএসসিসিতে ৩৩টি স্থান রয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসি তাদের ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২৯টি খাল উদ্ধার এবং সীমানা নির্ধারণে পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএসসিসি এলাকার পানি কমলাপুর-টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলের আউটলেট দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। ধারণক্ষমতা অপ্রতুল হওয়ায় সংস্থাটি নতুন দুটি আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের’ অধীনে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত আরেকটি আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন।
খাল পুনরুদ্ধারে ৮৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কালুনগর, জিরানি, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ জুন অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এর অনুমোদন দেয়।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে যে অর্থ বরাদ্দ ছিল, তা মূলত তাৎক্ষণিক ও স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মাথায় রেখে খরচ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেছেন তারা।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, ‘এক দশকে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বড় অংশ দিয়ে মূলত ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের মতো কাজ করা হয়েছে। টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য ভবিষ্যৎ বিবেচনায় যে বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেখানে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় হয়নি। ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ভালো ফল পাওয়া যেত, সেগুলো খুব কমই বাস্তবায়িত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ওয়াটার রিটেনশন পন্ড বা জলাধার ও লেক তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ব্যয় হয়নি এবং এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, জনগণের অসচেতনতার পাশাপাশি সরকারেরও বড় ব্যর্থতা রয়েছে। এত মাস্টারপ্ল্যান ও অ্যাকশন প্ল্যান করা হলেও কোনো সরকারই তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনগণের ভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার মতো একটি শহরের ড্রেনেজ সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পিত কাজ প্রয়োজন। কিন্তু দুই সিটি করপোরেশন খাল ও ড্রেনেজের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও খাল পরিষ্কার করছে, দুদিন পর ময়লা হয়ে যাচ্ছে। কোথাও পানি জমে আছে, সেখানে সড়ক উঁচু করে মানুষের ঘর ডুবিয়ে দিচ্ছে। এভাবে গত চার বছরে হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনে। এগুলো জনগণের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।’
কয়েক দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি মহাপরিকল্পনা
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৬৮ সালে ঢাকার প্রথম ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। পরে ১৯৬৩ সালে ঢাকার পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনসেবা পরিচালনার জন্য ঢাকা ওয়াসা গঠন করা হলেও ড্রেনেজ নির্মাণ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছেই থেকে যায়।
তবে ১৯৮৮ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার পর ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে এ দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার হাতে ন্যস্ত করা হয়।
রাজধানী ঢাকার জন্য সর্বশেষ ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে ঢাকা ওয়াসা। ২০১৫ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর মেয়াদি এ মহাপরিকল্পনা তিনটি পর্বে বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রথম পর্বের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৫-২০ সাল পর্যন্ত। পরবর্তী দুই পর্বের মেয়াদ ছিল যথাক্রমে ২০২০-৩০ ও ২০৩০-৪০ সাল পর্যন্ত।
এ মাস্টারপ্ল্যান ওয়াসাসহ ঢাকার সেবাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল। যদিও এক দশক পরও এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের বড় বাধা হিসেবে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতাকেও দেখা হয়।
সংস্থাগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘ঢাকার খালগুলো আবর্জনায় ভরা, বক্স কালভার্টগুলোর প্রবাহ বন্ধ, রিটেনশন পন্ডগুলো বেদখল, নিচু জমি ভরাট হয়ে গেছে। ধারণক্ষমতার চার-পাঁচ গুণ মানুষ এ শহরে বসবাস করছে। এ পরিস্থিতিতে এ নগরীর জন্য যে কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অনেক কঠিন কাজ। একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে করা সম্ভবই নয়। এখানে ওয়াসার ভূমিকা আছে। রাজউকের ভূমিকা আছে। ঢাকার সব নিম্নভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে, রাজউক কিছু বলছে না।’
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ঢাকা ওয়াসা ৪৩টির মধ্যে ২৯টি খাল হস্তান্তর করলেও সীমানা এবং আয়তনের কোনো দালিলিক হিসাব দেয়নি। ঢাকায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন থাকলেও সুয়্যারেজ লাইন না থাকায় গৃহস্থালি ও পয়োবর্জ্যে ড্রেন অবরুদ্ধ থাকে।
তিনি আরও বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকায় ওয়াসা কোনো সুয়্যারেজ লাইন দিতে পারেনি। এ ছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং শহরের সম্প্রসারিত এলাকায় জলাশয় ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ সীমানা-সংক্রান্ত দাবি অস্বীকার করে বলেন, ‘পাম্পহাউস থেকে শুরু করে ম্যানহোলের কাভার পর্যন্ত সবকিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ঢাকার জলাবদ্ধতার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘পুরো মহানগরটাই একটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল। যেহেতু তারা পুরোপুরি দলীয়ভাবে ব্যবহার করেছে, সে কারণেই নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত হয়নি। এখন সবকিছু জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে।’
জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে অসচেতনতা ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলা বর্জ্যকে দায়ী করে প্রশাসক বলেন, ‘রাস্তায় ফেলে দেওয়া পলিথিন, চায়ের কাপ ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেয়। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।’
অন্যদিকে, ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘অতি বৃষ্টিপাতের ফলে এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকায় ও কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার ফলে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।’
