গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা সাইবার অপরাধ মামলার প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর হাসানকে (৩৬) ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদী মো. সাইফুল আলমের স্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর হাসান ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী ও ভুক্তভোগী পোস্টটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ভুক্তভোগীর ছবির সঙ্গে বাদীর ছবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুলাই দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে কল করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ওই ছবি এবং আরও আপত্তিকর ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী মো. সাইফুল আলম গত ৯ জুলাই গাইবান্ধা সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৮।
মামলা দায়েরের পর আসামিকে গ্রেপ্তারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং এসআরবি-১-এর সিপিএসসি, উত্তরা, ঢাকার যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ঢাকার ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৮-এর উত্তরা সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে জাহাঙ্গীর হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে এসআরবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।


