কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পখাতে টেকসই বিনিয়োগ ও উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ESG Excellence Awards 2026-এ সম্মাননা পেয়েছে ফকির ফ্যাশন লিমিটেড।
গত ৫ সেপ্টেম্বর লেকশোর গ্র্যান্ডের লা ভিটা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে Carbon Emission Control ক্যাটাগরিতে শীর্ষ উদ্যোগগুলোর মধ্যে ‘Jury’s Choice Award’ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
UNGC Bangladesh ও ESG Institute আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
ফকির ফ্যাশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ স্বীকৃতি শুধু টেকসই উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি বা লক্ষ্যমাত্রার জন্য নয়; বরং কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং কম-কার্বন উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তব বিনিয়োগের প্রতিফলন।
প্রতিষ্ঠানটির টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির ওয়াহিদুজ্জামান রিয়াদের নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সবুজ উদ্যোগের প্রতি ধারাবাহিক গুরুত্ব ফকির ফ্যাশনের প্রবৃদ্ধির কৌশলে পরিবেশগত দায়িত্বশীলতাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়।
কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফকির ফ্যাশনের রয়েছে ৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা, ১ মেগাওয়াট Battery Energy Storage System (BESS), Flue Gas Capture & Utilisation Mechanism, ৩৫০ TR Vapor Absorption Chiller এবং ৫ দশমিক ৪ টন Exhaust Gas Boilers।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। এই স্বীকৃতিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘমেয়াদি ডিকার্বনাইজেশন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে ফকির ফ্যাশনের। পাশাপাশি ১০ টনের একটি biomass boiler ইতোমধ্যে চালু রয়েছে।
এ ছাড়া ‘Fakir Sobuj Chaya’ নামে কার্বন অফসেটিং কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ফকির ফ্যাশনের মতে, ডিকার্বনাইজেশনকে আলাদা কোনো টেকসই উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক ও পরিচালন কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
