ঢাকাThursday , 15 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাটির ব্যাংকে সঞ্চয়, গ্রামের পাঠাগারের উন্নয়নে কৃষক পরিবারের ভালোবাসা

শাহজাহান সুমন
October 15, 2026 11:07 am
Link Copied!

সংসারের খরচ মেটানোর পর সামান্য যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেখান থেকেই মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখেন তাঁরা। কেউ দিনে দুই টাকা, কেউ পাঁচ টাকা, আবার কেউ ১০ থেকে ২০ টাকা করে সঞ্চয় করেন। তিন মাস পর ব্যাংক ভেঙে সেই টাকা তুলে দেওয়া হয় গ্রামের পাঠাগারের উন্নয়নে। প্রতিটি মাটির ব্যাংকে জমা পড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। অর্থের পরিমাণ অল্প হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামের মানুষের ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর কিছু করার স্বপ্ন।

Advertisement

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপার বাজার এলাকায় ‘সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার’ ঘিরে গড়ে উঠেছে এমনই এক মানবিক উদ্যোগ। পাঠাগারের উন্নয়ন, নতুন বই ও বাদ্যযন্ত্র কেনা এবং ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজে সহায়তা করতে মাটির ব্যাংকে সঞ্চয় করছেন ২০টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা।

Advertisement

২০১৪ সালে মাত্র ১০টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে পাঠাগারটি। স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী জামাল হোসেনের উদ্যোগে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় পাঠাগারটি এখন গ্রামের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পাঠাগারটিতে বইয়ের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

পাঠাগারের নিজস্ব দ্বিতল ভবনের ভিত্তির ওপর একতলার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ সহায়তা করেছেন ঢাকার রবিন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজ লিমিটেডের পরিচালক শাহীন হোসেন এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। বাকি অর্থ এসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা থেকে।

Advertisement

পাঠাগারে বই পড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শিশু-কিশোর ও তরুণেরা সেখানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার পাশাপাশি সংগীতচর্চাও করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মেরিনা বেগম বলেন, পাঠাগারে বই পড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ঘটছে। বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা মাটির ব্যাংকে সামান্য সামান্য করে টাকা জমিয়ে পাঠাগারের উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিমাই চন্দ্র রায় জানায়, তার মা মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখেন। তিন মাস পর সেই ব্যাংক পাঠাগারে নিয়ে আসা হয়। নিমাই বলে, ‘আমরা নিয়মিত পাঠাগারে আসি। এখানে বই পড়ি, বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখি এবং সংগীতচর্চা করি।’

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জামাল হোসেন বলেন, ২০টি কৃষক পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেককে একটি করে মাটির ব্যাংক দিয়েছেন তিনি। তাঁদের এই উদ্যোগ তাঁকে অভিভূত করেছে। দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এভাবে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকার রবিন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজ লিমিটেডের পরিচালক শাহীন হোসেন বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের পাঠাগারের প্রতি এই মমত্ববোধই প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বড় অনুপ্রেরণা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
design and development by: Kishor Kumar