চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও চাঁদা সংগ্রহের তালিকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার।
তিনি জানান, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনা করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের লক্ষ্যস্থল শনাক্ত করা হয়। পরে সতর্কতা ও কৌশল অবলম্বন করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল (৩০), মো. মোরশেদ (৩৩), মো. বাবু (৩২) ও মো. সাব্বির (৩২)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাসেলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই তিনটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মোরশেদের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
অভিযানকালে একটি শটগান, একটি চায়নিজ পিস্তল, নয়টি সীসার বুলেট, ছয়টি কার্তুজ, একটি টেঁটা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং চাঁদা সংগ্রহের তালিকাসংবলিত একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনায়েত কাউছার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।


