ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে নেকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য এবং তাকে শ্রেণিকক্ষের পেছনে বসতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার অভিযোগও উঠেছে। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠী সুমি আক্তার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন।
সুমি আক্তারের দাবি, ক্লাস চলাকালে তাসনীম সিরাজ মাহবুব নেকাব পরিহিত ওই শিক্ষার্থীর পর্দা নিয়ে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, এভাবে পর্দা করা হয় না এবং মুখ খোলা রাখা যায়; হাত-পা ঢাকার প্রয়োজন নেই।
পরে ওই শিক্ষক নেকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে তার জন্য ‘ডিস্ট্র্যাক্টিং’ এবং ‘আনকমফোর্টেবল’ ও ‘আনসেইফ’ বোধ করার কথা জানিয়ে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন বলে অভিযোগ করেন সুমি।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন সুমি আক্তার। তার দাবি, তিনি শিক্ষককে বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার নিজস্ব মাজহাব অনুযায়ী এভাবে পর্দা করতে পারেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাসনীম সিরাজ তাকে মাজহাব না মানার বিষয়ে মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সুমির ভাষ্য অনুযায়ী, তর্কের একপর্যায়ে ওই শিক্ষক দাবি করেন, একটি বিতর্কে তিনি মামুনুল হককে পরাজিত করেছেন এবং সুমিকে তার সঙ্গে তর্ক না করার কথা বলেন।
এরপর নেকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে আবারও পেছনে বসার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি আরও দুই শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যান বলে দাবি করেন সুমি।
পরে ওই শিক্ষার্থীর পর্দা করার অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় তাসনীম সিরাজ মাহবুব সুমিকে প্রশ্ন করেন—‘তুমি কিভাবে ওকে সাপোর্ট করো? তুমি বলতে পারবা ও যে ফান্ডামেন্টালিস্ট না? ও সন্ত্রাসী না?’—বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সুমির দাবি, এ মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে ক্লাস বর্জন করেন।
ফেসবুক পোস্টে সুমি আরও দাবি করেন, নেকাব পরিহিত ওই শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগে চার বছর অনার্স শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারে রয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি নয়টি ভাইভা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। পুরুষ শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও ভাইভায় তাকে মুখ দেখাতে বাধ্য করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন সুমি।
এমনকি বিভাগের শিক্ষক অসীম দত্ত একটি ভাইভা থেকে নিজে বের হয়ে গিয়েছিলেন, যাতে ওই শিক্ষার্থী মুখ না দেখিয়েও ভাইভা দিতে পারেন—এমন দাবিও করেন তিনি।
এ ছাড়া তাসনীম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে ধর্ম, নেকাব ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগ করেছেন সুমি। তার দাবি, ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ‘গরিব’ বলেও কটাক্ষ করেন।
সুমির অভিযোগ, ৫০ মিনিটের একটি ক্লাসের বড় একটি অংশ নিয়মিত পাঠদানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত মতামত, নিজের প্রশংসা ও অন্যান্য আলোচনায় চলে যায়।
ঘটনার পর ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাসনীম সিরাজ মাহবুবের কোর্স পরিবর্তন করা হবে বলে দাবি করেন সুমি।
তবে এ সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট নয় বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের কথিত আচরণে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এর জবাবদিহি ও প্রতিকারের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাসনীম সিরাজ মাহবুবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।


