রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) সাভারের আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম (৪৮) বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের ১৪ বছর বয়সী কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার আসামি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি নিখোঁজ হয় ওমর আলী। তিন দিন পর ৪ জানুয়ারি গ্রামের একটি ঘাসখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আহেদ শেখ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত করছিল বালিয়াকান্দি থানা-পুলিশ। পরে ২০২১ সালের মে মাসে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআইয়ের ফরিদপুর কার্যালয়।
তদন্তে নজরুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ২০২২ ও ২০২৪ সালে ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় চার দফা অভিযান চালানো হলেও প্রতিবারই তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে চলে যান।
পিবিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, নজরুল দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তার ওপর সন্দেহ আরও বাড়ে। তিনি কোনো মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না। পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তার ছেলের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়া থেকে নজরুলের ২০ বছর বয়সী ছেলেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজবাড়ীর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
যেভাবে হত্যার ঘটনা
বুধবার (৭ অক্টোবর) ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, তদন্তের মাধ্যমে ওমর আলী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরকীয়াকে কেন্দ্র করে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওমর আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তে এ ঘটনায় নজরুলসহ মোট পাঁচজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওমর আলীকে রাস্তা থেকে তুলে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশের তল্লাশির খবর পেয়ে পরদিন রাতে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গ্রামের একটি ঘাসখেতে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।


