ঢাকাWednesday , 23 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদ্মা সেতুর ঝুঁকি বাড়িয়ে ৬ কোটি ঘনফুট বালু তোলার চেষ্টা

Link Copied!

‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদী থেকে বালু তোলার আবেদন করেছে। আবেদনের প্যাডে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। তবে সরেজমিনে খুঁজেও ওই ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রাও ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কথা জানেন না। আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

Advertisement

অথচ এমন একটি প্রতিষ্ঠানকেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদ্মা সেতুর কাছাকাছি এলাকা থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। যে এলাকা থেকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ঠিক সেখানেই নদীভাঙন রোধে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ওই এলাকা থেকে বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

Advertisement

জানা গেছে, উত্তোলন করা বালু সরকারি কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। মূলত বিক্রির জন্যই বালু তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে দ্রুত অনাপত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওই অনাপত্তির নথি অনুমোদনের জন্য রাতে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সই করেন বলেও জানা গেছে। পরে অনাপত্তি বাতিল করতে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রথমে চিঠি দিলেও সম্প্রতি একই মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটিকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে আরেকটি চিঠি দিয়েছে।

Advertisement

এসব চিঠিতে কাটার সাকশান ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলার শর্ত দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের ড্রেজার কোম্পানি হিসেবে বিআইডব্লিউটিএতে নিবন্ধিত নয় বলে জানা গেছে।

কারিগরি কমিটি গঠন

বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন। তবে বালু তোলার নামে অপরিকল্পিত খননের ফলে নদীভাঙন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং মাছের প্রজননে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

মুন্সীগঞ্জে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা এসব আশঙ্কার কথা জানান।

কারিগরি কমিটির প্রধান ও লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, কিছু বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তারা নিজেদের ফাইন্ডিংস দিয়েছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে বালু তোলার সুযোগ নেই

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেন, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বালুমহাল ঘোষণা করে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদার নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এ কার্যক্রম স্থানীয় জেলা প্রশাসন পরিচালনা করে। বেসরকারি কাউকে এভাবে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সরকারি কোনো প্রকল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কখনো কখনো অনুমতি দেওয়া হয়।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বালু তোলার আবেদন করেছে। আইনিভাবে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু একটি কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা)। নদীভাঙনপ্রবণতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পদ্মা সেতুর নদীশাসন নিয়ে আশঙ্কা

পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন দুজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নদীর বালু তুলে যারা ব্যবসা করেন, তারা দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার ব্যবহার করেন। এতে একই স্থান থেকে বারবার বালু তোলায় গভীর খাদ তৈরি হয় এবং আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিতে পারে।

তাদের আশঙ্কা, পদ্মা সেতুর আশপাশে এমনভাবে বালু উত্তোলন করা হলে ভয়াবহ নদীভাঙন ও জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

৫২৭ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসককে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, পদ্মা সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নদীভাঙন রোধে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা চরটি ইতোমধ্যে মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও নদীভাঙনের চিত্র স্পষ্ট।

পদ্মা সেতুর ভাটিতে ১৬ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ হলেও ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বাকি ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের জন্য মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন।

পাওয়া যায়নি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব

গত ৪ মে ‘আইকনিক সোর্সিং’-এর প্রোপ্রাইটর সৈয়দ সাদাব মাহবুব বিআইডব্লিউটিএতে বালু তোলার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতুর মূল ঠিকাদারের ক্রেন চলাচল ও পলি অপসারণের জন্য দেশীয় ড্রেজার দিয়ে চ্যানেল তৈরির অনুমোদন দেওয়া হলে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি করবেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে বালি/মাটির নির্ধারিত ফি সরকারকে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে উত্তোলিত বালু কোথায় ব্যবহার করা হবে, আবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির প্যাডে অফিসের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। প্যাডে প্রতিষ্ঠানের সিল, ওয়েবসাইটের ঠিকানা কিংবা প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কাজ করে, সে বিষয়ে কোনো তথ্যও উল্লেখ নেই। ফর্মে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে বছিলা মেইন রোডে গিয়ে ১১৫/১ নম্বরের কোনো হোল্ডিং পাওয়া যায়নি। তবে ১১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে টিন দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছোট মুদি দোকান, লাইব্রেরি, মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও চায়ের দোকান রয়েছে।

সেখানকার হাফসা টেলিকমের মালিক মিয়া হোসেন বলেন, ১১৫/১ নামে কোনো হোল্ডিং নেই। ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামেও কোনো প্রতিষ্ঠানের কথা তিনি শোনেননি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সরকারি দপ্তরে অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দ সাদাব মাহবুবের ভাই পরিচয় দেওয়া কাজী মো. লিয়াকত। তিন দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাদাব মাহবুবের মোবাইল নম্বর বা প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা দিতে রাজি হননি।

ভুয়া ঠিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেই মাধ্যমে আপনি তথ্য পাচ্ছেন, তারাই ভালো বলতে পারবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।