ঢাকাThursday , 27 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যন্ত্রাংশের আড়ালে খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা, মোংলায় এআইয়ে শনাক্ত

Link Copied!

‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে মূলত চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা করা হয়েছিল। গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে যন্ত্রাংশ হিসেবে চালানে দেখানো হয়। মোংলা বন্দরে আসা একটি চালান পরীক্ষা করে এমন কৌশলের বিষয়টি শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

Advertisement

কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, চালানটিতে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে গাড়িগুলোর সম্ভাব্য বাজারমূল্য সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

অন্যদিকে, পুরো চালানটিকে ১৪ ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

Advertisement

যেভাবে ধরা পড়ে

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪, তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি মোংলা বন্দরে আসে।

১৬৪ প্যাকেজের চালানটিতে ব্যবহৃত গাড়ির দরজা, ইঞ্জিন, গিয়ার, শক অ্যাবজর্বার, হেডলাইট, টেললাইট, বাম্পার, স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা। পরে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা নম্বর, চিহ্ন, স্টিকার ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় এসব অংশ কোন গাড়ির, তা শনাক্ত করা হয়।

যন্ত্রাংশের বদলে ছিল গাড়ির বড় অংশ

পরীক্ষায় দেখা যায়, চালানটিতে সাধারণ বিচ্ছিন্ন যন্ত্রাংশের পাশাপাশি গাড়ির সামনের ও পেছনের সম্পূর্ণ অংশ, সামনের-পেছনের কাঠামো এবং ছাদের অংশসহ বড় বড় কাঠামোগত অংশ রয়েছে।

এসব অংশে তারের সংযোগ, বিভিন্ন সেন্সর এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও যুক্ত ছিল। এ কারণে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, গাড়িগুলোকে সম্পূর্ণ যন্ত্রাংশে ভেঙে না ফেলে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, এসব অংশ জোড়া লাগালে গাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্যের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

শনাক্ত চার বিলাসবহুল গাড়ি

চালান থেকে শনাক্ত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ। যুক্তরাজ্যে তৈরি এ গাড়িটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

২০১০ সালের বিএমডব্লিউ ৬৫০আইয়ের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০-এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া জাপানে তৈরি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের মডেল জিআরএস২০৪। গাড়িটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

ইনভয়েসে মূল্য দেখানো মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ ডলার

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চারটি গাড়ির অংশ থাকা পুরো চালানের ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। অন্যান্য খরচসহ শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে শুল্ক-কর ধরা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। অন্যান্য অর্থসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের চারটি গাড়িকে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখিয়ে কম মূল্যে শুল্ক পরিশোধের চেষ্টা করা হয়েছে।

শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত নয়

তবে এ ঘটনায় প্রকৃত কত টাকা শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, গাড়িগুলোকে সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে বিবেচনা না করে খণ্ডিত অবস্থায় থাকা সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে মূল্যায়ন করে শুল্ক নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাড়ির মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বয়স, অবচয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে। এরপরই সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও তাতে যদি সম্পূর্ণ পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য বা ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বজায় থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবেই শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে।

এ ঘটনায় আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ও উঠে এসেছে। চালানটিকে এসকেডি অবস্থায় মোটরযান হিসেবে শুল্কায়নের মতামত দিয়ে কাস্টম হাউস, মোংলায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করা, শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া এবং যন্ত্রাংশের আড়ালে সম্পূর্ণ বা খণ্ডিত গাড়ি আমদানির চেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।